Child Marriage Alert: বাল্যবিবাহ রুখতে কড়া পদক্ষেপ! এই নিয়ম ভাঙলে কি বন্ধ হবে অন্নপূর্ণা সহ সরকারি ভাতা?

বিগত সরকারের সময় থেকেই রাজ্যে বিভিন্ন ধরনের সরকারি সুযোগ-সুবিধা চালু রয়েছে সাধারণ মানুষের জন্য। তবে রাজ্যে পালাবদলের পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিভিন্ন ধরনের ঘোষণা করেছেন একের পর এক। নতুন সরকারের আমলে যোগ্য মানুষ অন্নপূর্ণা যোজনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ভাতা ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকেন। তবে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও শর্ত পূরণ করা জরুরি। তবে আপনি যদি বেশ কিছু ভুল করে থাকেন বা সরকারি আইন ভঙ্গ করেন তাহলে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা আপনি পাবেন না, এমনটাই জানানো হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফে।

বিশেষ করে ১৮ বছরের আগে মেয়েদের এবং ২১ বছরের আগে ছেলেদের বিয়ে দেওয়া আইনত নিষিদ্ধ। ১৮ বছরের নিচে মেয়েদের বিবাহ হলে সেটা বাল্যবিবাহ হিসেবে ধরা হবে। বাল্যবিবাহের সঙ্গে যুক্ত হলে সামাজিক ক্ষতির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া যেতে পারে।

​কোন অপরাধে আটকে যেতে পারে প্রকল্পের টাকা?

ভারত সরকারের কঠোর আইন রয়েছে ১৮ বছরের নিচে মেয়েদের বিয়ে দিলে সেটি বাল্যবিবাহ হিসেবে ধরা হবে। আইন থাকা সত্ত্বেও রাজ্যের কিছু এলাকায় এখনও গোপনে বাল্যবিবাহ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় মাতৃত্বের ঘটনা ঘটছে বলে প্রশাসনের নজরে এসেছে। এই পরিপেক্ষিতেই এবার রাজ্য সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। বাল্যবিবাহ রুখতেই এই বিষয়ে কড়া সতর্কতার কথা বলা হচ্ছে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে।

কোনও পরিবার যদি ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়ের বিয়ে দেয়, তাহলে সেই পরিবারের সরকারি সুবিধা নিয়ে সমস্যার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। এমনকি সেই পরিবারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে। অন্নপূর্ণা যোজনা, বিভিন্ন সরকারি ভাতা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।

শুধু সরকারি সুবিধা নয়, হতে পারে আইনি শাস্তিও

বাল্যবিবাহ শুধু একটি সামাজিক সমস্যা নয়, আইন অনুযায়ী এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই শাস্তিযোগ্য অপরাধ যদি কোন পরিবার করে থাকে তাহলে সেই পরিবারের বিরুদ্ধেও আইনত পদক্ষেপ নেওয়া হবে এমনটাই ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিয়ের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

যাঁরা গোপনে বা জোর করে এই ধরনের বিয়ের আয়োজন করেন, তাঁদের পাশাপাশি বাল্যবিবাহে সহযোগিতা বা উৎসাহ দেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও জেল-জরিমানার মতো আইনি ব্যবস্থা হতে পারে।

মেয়েদের পড়াশোনার উপর গুরুত্ব

অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে না দিয়ে মেয়েদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে এবং তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া ও ভবিষ্যতে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ দেওয়াই রাজ্য সরকারের মূল লক্ষ্য। এই কারণেই মেয়েদের শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষার জন্য বিভিন্ন সময়ে একাধিক সরকারি আর্থিক সহায়তা প্রকল্প চালু করা হয়েছে। মেয়েদের আর্থিক সুরক্ষা দেওয়ার জন্য ও তাদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহ বাড়ানোর জন্য কন্যা রত্ন প্রকল্পে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণাও করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।১৮ বছরের আগে বিবাহ বা বাল্যবিবাহের মতো ঘটনা শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের জন্যই ক্ষতিকর।

এমন ঘটনা চোখে পড়লে কী করবেন?

নিজের পরিবারে তো কখনই ১৮ বছরের নিচে মেয়েদের বিয়ে দেওয়া উচিত নয় এমনকি আশপাশে ১৮ বছরের কম বয়সী কোনও মেয়ের বিয়ের আয়োজন চলছে বলে জানতে পারলে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনা উচিত।সরকারি প্রকল্পের সুবিধার পাশাপাশি মেয়েদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাও সবার দায়িত্ব।