WB Primary TET: আগামী ৩ মাসের মধ্যেই রাজ্যে টেট পরীক্ষা? বড় আপডেট দিল প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে রাজ্যে অবশেষে আবারো নতুন করে টেট পরীক্ষা হতে চলেছে। রাজ্যের সর্বশেষ স্টেট হয়েছিল ২০২৩ সালে। প্রতি বছর বছর টেট পরীক্ষা নেওয়ার কথা থাকলেও এবং দীর্ঘ তিন বছর কেটে গেলেও রাজ্যে কোন টেট পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। অবশেষে রাজ্যে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ ও টেট (TET) পরীক্ষা নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নতুন করে টেট পরীক্ষা নেওয়ার খবর সামনে এসেছে। প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ সূত্রে জানা যাচ্ছে, রাজ্য সরকার সবুজ সংকেত দিলেই আগামী তিন মাসের মধ্যে নতুন করে টেট পরীক্ষা নিতে পুরোপুরি প্রস্তুত তারা। ইতিমধ্যেই এই সংক্রান্ত বিষয়ে স্কুল শিক্ষা দফতরকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়ে নিজেদের প্রস্তুতির কথা জানিয়ে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। নতুন করে রাজ্যের টেট পরীক্ষা হওয়ার খবর সামনে আসতেই লক্ষ লক্ষ চাকরি প্রার্থীরা নতুন করে আশার আলো দেখতে পাচ্ছে।

কেন হঠাৎ টেট নেওয়ার তোড়জোড়?

এই দ্রুত টেট পরীক্ষা নেওয়ার পিছনে রয়েছে দেশের শীর্ষ আদালতের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ। সুপ্রিম কোর্টের ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, দেশের প্রাথমিক ও উচ্চ-প্রাথমিক স্তরে কর্মরত সমস্ত শিক্ষককে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। যাঁদের চাকরির মেয়াদ মাত্র কয়েক বছর বা পাঁচ বছর বাকি রয়েছে, কেবল তাঁদের ক্ষেত্রেই হয়তো বিশেষ ছাড় মিলতে পারে। এই পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যে প্রায় লক্ষ লক্ষ শিক্ষকদের চাকরি বাঁচাতে আবারো নতুন করে টেট পরীক্ষা দিতে হবে। এই পরিস্থিতিতে স্কুল শিক্ষা দফতরের তরফে পর্ষদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ঠিক কত দিনের মধ্যে তারা নতুন করে টেট পরীক্ষা আয়োজন করতে পারবে। তার উত্তরেই পর্ষদ তিন মাসের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে।

পুরনো শিক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ ও জটিলতা

সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ আসার পরেই কর্মরত শিক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হিসেব অনুযায়ী, সারা দেশে এমন বহু শিক্ষক রয়েছেন যাঁরা টেট চালুর আগে নিয়মানুযায়ী চাকরি পেয়েছিলেন, এমনকি তারা সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী তখন যে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল সেই পরীক্ষা দিয়েই চাকরি পেয়েছিলেন। ফলে এই শিক্ষকদের মত অনুযায়ী এই টেট পরীক্ষা নেওয়ার কোন মানেই হয় না। পশ্চিমবঙ্গেও এই সংখ্যাটা বেশ কয়েক হাজার।

শিক্ষকদের বক্তব্য, ২০১০-১১ সালের দিকে যখন শিক্ষার অধিকার আইন ও টেটের নিয়ম চালু হয়, তার বহু আগে থেকেই অনেকে শিক্ষক শিক্ষকতা করে আসছেন। এমনকি অনেক শিক্ষক পরবর্তীকালে ডি এল এড ডিগ্রী ও অর্জন করেছেন। তাই তাঁদের ওপর নতুন করে এই নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য আগেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য, পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনও এই নিয়ে নিজেদের দাবি জানিয়ে আসছে। তবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ প্রত্যেকটি শিক্ষাকে টেট পাস থাকতে হবে এবং টেট পাস করার জন্য নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হয়েছে সেই টাইমের মধ্যে টেট পাশ না করলে চাকরি চলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এখন কী করণীয়?

কর্মরত শিক্ষকদের নিয়ম নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা চললেও, নতুন চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে বড় একটি সুযোগ হতে পারে। নতুন প্রার্থীদের এখানে সুযোগ দেওয়া হবে কিনা সে বিষয়ে পর্ষদ স্পষ্ট করে কিছু বলেনি। পর্ষদ নিজেদের প্রস্তুতির কথা জানালেও পরীক্ষার নির্দিষ্ট দিনক্ষণ, আবেদনের তারিখ ও বিস্তারিত গাইডলাইন নির্ভর করছে সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর।