মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ক্ষমতায় আসার পরে রাজ্যবসীর জন্য ঘোষণা করেছিলেন প্রতি মাসে মাসে মহিলাদের অন্নপূর্ণা ভান্ডার দেওয়া হবে। বিশেষ করে আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মহিলাদের অর্থনৈতিক সহায়তায় মাসে ৩ হাজার টাকার প্রতিশ্রুতি নিয়ে চালু হওয়া অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প ঘিরে সাধারণ মানুষের আগ্রহ তুঙ্গে। ইতিমধ্যে রাজ্যে প্রায় দেড় কোটি মহিলা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা পেয়েছেন। বহু মহিলা ইতিমধ্যেই এই সুবিধার আওতায় আসতে নিয়ম মেনে আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন। তবে ফর্ম জমা দেওয়ার কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও অনেকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এখনও টাকা ঢোকেনি। এই নিয়ে অনেকের দুশ্চিন্তায় ভুগছেন। এমনকি পোর্টাল বা মোবাইল থেকে আবেদনের বর্তমান অবস্থা যাচাই করতে গেলে একটানা ‘Under Process’ কথাটিই ভেসে উঠছে। দীর্ঘ সময় ধরে একই স্টেটাস আটকে থাকতে দেখে আবেদনকারীদের মনে সংশয় তৈরি হয়েছে যে, আবেদনটি কি বাতিল হয়ে গেল, নাকি অন্য কোনো সমস্যা রয়েছে। কেন এমন হচ্ছে এবং যাদের এই সমস্যা দেখাচ্ছে তারা কবে থেকে টাকা পেতে পারেন বিস্তারিত জানুন আজকের প্রতিবেদনে।
‘Under Process’ স্টেটাসের প্রকৃত অর্থ কী?
প্রশাসনিক নিয়ম অনুসারে, স্টেটাসে ‘Under Process’ ফুটে উঠলে অযথা ভয় পাওয়ার বা আবেদন বাতিল হয়ে গেছে ভাবার কোনো কারণ নেই। এর স্পষ্ট অর্থ হলো, আপনার আবেদনটির সফলভাবে সরকারি পোর্টালে জমা পড়েছে এবং এটি বাতিল হয়নি। যেহেতু লক্ষ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে, তাই প্রতিটি নথিপত্র এবং পারিবারিক যোগ্যতার তথ্য যাচাই করা হচ্ছে ধাপে ধাপে। পুরো স্ক্রুটিনি পর্ব শেষ না হওয়া পর্যন্ত সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবেই এটিকে প্রসেসিং তালিকায় রাখে। আপনার আবেদন প্রক্রিয়াটি যদি সফলভাবে যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে যায় তাহলে এই সমস্যাটি দূর হয়ে যাবে এবং স্ট্যাটাস এপ্রুভ দেখাবে।
কেন দীর্ঘ সময় ধরে আটকে থাকছে এই স্টেটাস?
দীর্ঘদিন এই অবস্থা আটকে থাকার পেছনে মূলত কারিগরি ও প্রশাসনিক কিছু কারণ থাকে। প্রত্যেকটি জেলায় এবং প্রতিটি ব্লকে প্রচুর পরিমাণে আবেদন পত্র একসঙ্গে জমা পড়ায় ভেরিফিকেশনের কাজ সম্পন্ন করতে স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি সময় লাগছে। এর পাশাপাশি যেহেতু ডিবিটি (DBT) লিংক এর মাধ্যমে টাকা পাঠানো হচ্ছে তাই আবেদনকারীর নাম, ঠিকানার প্রমাণ এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার ও ডিবিটি (DBT) সংযুক্তির তথ্য সার্ভারের মাধ্যমে মেলানোর সময় সামান্য অসঙ্গতি ধরা পড়লেও আপনার আবেদন পত্রটি অতিরিক্ত পরীক্ষার জন্য আটকে থাকে এবং পরবর্তীকালে এগুলো ম্যানুয়ালি যাচাই করা হয়। এছাড়া প্রশাসন সাধারণত এককালীন নয়, বরং দফায় দফায় কিস্তিতে অনুমোদন দিয়ে থাকে। এর ফলে আগের লটে যে সমস্ত কাজ সম্পন্ন হয়নি সেগুলো আগে সম্পূর্ণ করে এর ফলে পরবর্তী আবেদনগুলি এই অবস্থাতেই থাকে।
সমস্যা সমাধানে আবেদনকারীদের করণীয় পদক্ষেপ
যাঁদের স্টেটাস দীর্ঘদিন ধরে একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রয়েছে, হয়তো তাদের কিছু সমস্যা রয়েছে তাই তাদের আবেদন খারিজ ধরে নেওয়ার বদলে নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টটি সচল রয়েছে কি না এবং তাতে আধার ও ডিবিটি সক্রিয় আছে কি না তা স্থানীয় ব্যাঙ্কে গিয়ে যাচাই করে নেওয়া উচিত। অনেকের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে ডিবিটিং সক্রিয় না থাকায় টাকা পাঠানো সত্ত্বেও ব্যাংক একাউন্টে টাকা পৌঁছায়নি ফলে স্ট্যাটাস আন্ডার প্রসেস দেখাচ্ছে। একবার প্রশাসনিক স্তরে সবুজ সংকেত মিললে পরবর্তী কিস্তিতে অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকে যাওয়ার পূর্ণ সম্ভাবনা থাকে। তবে অতিরিক্ত বিলম্ব হলে সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত, ব্লক অফিস বা পুরসভার সামাজিক সুরক্ষা বিভাগে গিয়ে একবার খোঁজ নেওয়া যেতে পারে।








