আপনি যদি ভারতের একজন কৃষক হয়ে থাকেন তাহলে আপনার জন্য রয়েছে বিশেষ একটি আপডেট। বর্তমান দিনের পর দিন ভারত ডিজিটাল হচ্ছে আর এই ডিজিটাল ভারতের যুগে কৃষকদের জন্য এবার আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে ‘ফার্মার আইডি’ বা Farmer ID কার্ড। আপনি যদি একজন কৃষক হয়ে থাকেন এবং আপনার কাছে যদি এই কার্ড না থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই আপনার এই কার্ড বানিয়ে নিতে হবে, না হলে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বেশ কিছু সুযোগ সুবিধা থেকে আপনি বঞ্চিত থাকবেন। বিশেষ করে Pradhan Mantri Kisan Samman Nidhi বা PM-Kisan প্রকল্পের আর্থিক সাহায্য পেতে গেলে Farmer ID থাকা অত্যন্ত জরুরি বলে জানানো হয়েছে।
কৃষকদের যদি এই কার্ড না থেকে থাকে তাহলে ভবিষ্যতে ভর্তুকি, কৃষিঋণ, কিষাণ ক্রেডিট কার্ড (KCC), বীজ ও সার সংক্রান্ত একাধিক সরকারি সুবিধা পেতে সমস্যায় পড়তে হতে পারে। তাই যত দ্রুত সম্ভব আপনি এই কার্ড বানিয়ে নিতে পারেন এবং সরকারি সমস্ত ধরনের সুযোগ-সুবিধা পেতে পারেন।
Farmer ID হল কৃষকদের জন্য একটি ইউনিক ডিজিটাল পরিচয়পত্র। এই আইডির মাধ্যমে একজন কৃষকের সমস্ত তথ্য ও সরকারের কাছে থাকে। সরকার যখন ইচ্ছে বা যেভাবে ইচ্ছে কৃষকদের সাহায্য করতে পারে। এই আইডি কাডের মাধ্যমিক কৃষকদের জমির তথ্য, চাষ করা ফসলের বিবরণ সহ কৃষকদের ব্যাংক একাউন্ট ও কৃষকেরা কি কি ধরনের সরকারি প্রকল্পের সুযোগ সুবিধা পান এই সমস্ত তথ্য থাকে। তা কৃষকেরা যখন ইচ্ছে সরকারের কাছে তাদের দাবি দেওয়া জানাতে পারে এই আইডি কার্ডের মাধ্যমে এবং তারা সরকারি সুযোগ সুবিধা নিতে পারে।
আমরা সকলেই জানি এতদিন পর্যন্ত Pradhan Mantri Kisan Samman Nidhi প্রকল্পের আওতায় যোগ্য কৃষকদের বছরে ৬,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। তবে এবার থেকে কৃষকদের ৯০০০ টাকা করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। তাই ভবিষ্যতে PM-Kisan সহ একাধিক প্রকল্পে Farmer ID বাধ্যতামূলক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বর্তমানে মোবাইল ফোন থেকেই অনলাইনে সহজে Farmer ID রেজিস্ট্রেশন করা সম্ভব।
প্রথমে সংশ্লিষ্ট সরকারি কৃষি পোর্টালে যেতে হবে। সেখানে “Farmer ID Registration” অপশন দেখা যাবে। এরপর আবেদনকারীকে তার নিজের ১২ সংখ্যার আধার নম্বর সঠিকভাবে লিখতে হবে। আধার কাটতে যেই মোবাইল নাম্বারের সঙ্গে লিংক করা রয়েছে সেই আধারের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নম্বরে একটি OTP আসবে। সেটি দিয়ে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করতে হবে। সঠিকভাবে OTP যাচাইয়ের পর নাম, ঠিকানা ইত্যাদি তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ক্রিনে চলে আসবে, এবং সমস্ত তথ্য সঠিক স্থানে সঠিকভাবে দিতে হবে। এরপর জমির খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর এবং চাষের তথ্য পূরণ করতে হবে। এরপর আবেদনকারীর নিজের সক্রিয় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর ও IFSC কোড দিতে হবে। সব তথ্য ঠিক থাকলে সাবমিট করতে হবে। যাচাই সম্পূর্ণ হলে Farmer ID তৈরি হয়ে যাবে।
Farmer ID তৈরি করতে সাধারণত নিচের নথিগুলি প্রয়োজন হতে পারে—
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে কৃষিক্ষেত্রে ডিজিটাল ব্যবস্থাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। প্রত্যেকটি কৃষকের এই আইডি কার্ড থাকলে প্রত্যেকটি কৃষক সরকারের কাছে রেজিস্টার থাকবে ফলে সরকারের যেমন সুবিধা হবে তেমনি কৃষকদেরও সুবিধা হবে। Farmer ID থাকলে কৃষকদের সরকারি সুবিধা পেতে কম সময় লাগবে এবং দালালচক্রের সমস্যাও অনেক কমবে।
গ্রামের বহু কৃষক এখনও এই ডিজিটাল ব্যবস্থার সঙ্গে পুরোপুরি পরিচিত নন। তাই যারা এখনো এই প্রকল্প সম্বন্ধে জানেন না তাদের প্রশাসনের তরফে ব্লক অফিস, কৃষি দপ্তর এবং CSC কেন্দ্রগুলির মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
যাঁরা এখনও Farmer ID তৈরি করেননি, তাঁদের দ্রুত আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আপনি যদি একজন কৃষক হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনাকে এই আইডি কার্ড বানিয়ে নেওয়া দরকার। কারণ ভবিষ্যতে PM-Kisan, কৃষিঋণ, ভর্তুকি ও অন্যান্য কৃষি প্রকল্পের সুবিধা পেতে এই ডিজিটাল পরিচয়পত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে।
নতুন সরকার ক্ষমতা আসার পর থেকেই রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য বিরাট বড় একটি ঘোষণা করা… Read More
রাজ্য সরকার এবার রাজ্যবাসীদের জন্য নিয়ে আসছে আয়ুষ্মান ভারত কার্ড। এতদিন পর্যন্ত যারা স্বাস্থ্য সাথী… Read More
লক্ষী ভান্ডার প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়ে রাজ্যের মহিলাদের মধ্যে শুরু… Read More