লক্ষী ভান্ডার প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়ে রাজ্যের মহিলাদের মধ্যে শুরু হয়েছে জল্পনা। রাজ্যের মহিলাদের জন্য নতুন সরকারের ঘোষিত অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পকে ঘিরে দিনের পর দিন উদ্বেগের সৃষ্টি হচ্ছে মহিলাদের মধ্যে। ইতিমধ্যে প্রশাসন সূত্রে খবর পাওয়া গিয়েছে আগামী জুন মাস থেকেই যোগ্য মহিলাদের ব্যাংক একাউন্টে প্রতি মাসে তিন হাজার করে টাকা পাঠানো শুরু হবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের মাধ্যমে। তবে এবার এই প্রকল্পের টাকা পেতে হলে আপনাকে মানতে হবে বেশ কিছু নিয়ম, যেগুলো সঠিকভাবে পালন না করলে বন্ধ হয়ে যেতে পারে আপনার এই প্রকল্পের টাকা পাওয়া। বিশেষ করে ডিবিটি (DBT) অ্যাক্টিভেশন এবং এনপিসিআই (NPCI) ম্যাপিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
এবার টাকা পেতে গেলে আপনার একাউন্টের সঙ্গে আধার লিঙ্ক থাকতেই হবে সঙ্গে থাকতে হবে আর এর সঙ্গে একাউন্টে থাকতে হবে DBT লিংক। তাই এতদিন পর্যন্ত যারা লক্ষী ভান্ডার প্রকল্পের টাকা পাচ্ছিলেন তারা এবার অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পেতে গেলে আগে থেকেই থেকেই সতর্ক হতে বলা হয়েছে।
বর্তমানে কেন্দ্র ও রাজ্যের অধিকাংশ সরকারি প্রকল্পের টাকা সরাসরি উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। এরফলে সরাসরি ব্যাংক একাউন্টে পাঠানোর জন্য ব্যাংক একাউন্টের সঙ্গে DBT লিংক থাকা বাধ্যতামূলক। DBT লিংক পদ্ধতিকেই বলা হয় ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার বা DBT। কিন্তু শুধুমাত্র ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকলেই হবে না, অনেকের একাধিক ব্যাংক একাউন্টে থাকতে পারে তবে DBT লিংক শুধুমাত্র একটি ব্যাংক একাউন্টের সঙ্গেই হয়। অর্থাৎ যে একাউন্টে ডিবিট লিংক থাকবে সেই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার নম্বর সঠিকভাবে যুক্ত থাকতে হবে এবং NPCI সার্ভারে সেটি ম্যাপ করা থাকতে হবে। তবেই সরকারি ভাতার টাকা সঠিক অ্যাকাউন্টে জমা হবে।
গ্রাহকেরা অনলাইন এবং অফলাইন— দুইভাবেই এই কাজ করতে পারবেন। অনলাইনে বাড়িতে বসে নিজেরাও করতে পারেন এবং অফলাইনে করতে হলে আপনাকে যেতে হবে ব্যাংক একাউন্টের শাখায়।
যাঁরা অনলাইনে কাজ করতে স্বচ্ছন্দ নন, তাঁরা সরাসরি ব্যাঙ্ক শাখায় গিয়ে কাজটি করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনার ব্যাঙ্ক একাউন্ট এবং আধার কার্ড অবশ্যই নিয়ে যেতে হবে।
১. নিজের ব্যাঙ্ক ব্রাঞ্চে যান এবং সেখানে গিয়ে DBT লিংক করার জন্য ফর্ম চান।
২. Aadhaar Seeding বা DBT Activation ফর্ম সংগ্রহ করার পরে সেখানে সমস্ত তথ্য ভালোভাবে ফিলাপ করুন এবং আধার কার্ডের নাম্বার ও ব্যাংক একাউন্টের তথ্য সঠিকভাবে দিন।
৪. আধার কার্ডের জেরক্স কপি আপনাকে জমা দিতে হবে।
৫. ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ যাচাই করে সিডিং সম্পন্ন করবে এবং আপনার একাউন্টে যদি অন্য কোন ব্যাংকের সঙ্গে DBT লিংক থাকে তাহলে সেটি চেঞ্জ হয়ে আপনার নিজস্ব ব্যাংকের সঙ্গে DBT লিংক হয়ে যাবে।
সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে যায়।
বর্তমানে প্রায় সব ব্যাঙ্কই নেট ব্যাঙ্কিং ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে আধার লিঙ্কের সুবিধা দিচ্ছে।
অনেকেই জানেন না তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে DBT সক্রিয় আছে কিনা। খুব সহজেই এটি যাচাই করা যায়।
১. myAadhaar পোর্টালে যান সেখানে গিয়ে প্রথমে আধার নাম্বার ওটিপি দিয়ে লগইন করতে হবে।
৩. “Aadhaar-Bank Seeding Status” অপশনে ক্লিক করুন
৪. সেখানে কোন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট DBT-র জন্য সক্রিয় রয়েছে তা দেখা যাবে
এটি চেক করতে গেলে অবশ্যই আপনার আধার কার্ডের সঙ্গে মোবাইল নাম্বার লিঙ্ক থাকতে হবে। এছাড়াও ব্যাঙ্ক ব্রাঞ্চ, কাস্টমার কেয়ার বা মোবাইল ব্যাঙ্কিং অ্যাপ থেকেও এই তথ্য জানা সম্ভব।
NPCI বা National Payments Corporation of India সরকারি টাকা কোন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে যাবে তা নির্ধারণ করে। অনেকের একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকে। সেই ক্ষেত্রে NPCI-তে যে অ্যাকাউন্টটি “Primary” হিসেবে সেট করা থাকে, সেখানেই সরকারি টাকা যায়। তাই ভবিষ্যতের জন্য এবং কেন্দ্র সরকারের বা রাজ্য সরকারের কোন প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য এটি থাকা বাধ্যতামূলক।
ধরা যাক আগে অন্য ব্যাঙ্কে DBT সক্রিয় ছিল, কিন্তু এখন নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পেতে চান। সেক্ষেত্রে NPCI ম্যাপিং পরিবর্তন করতে হবে।
“Bharat Aadhaar Seeding Enabler” অপশনে ক্লিক করুন।
“Aadhaar Seeding/Deseeding Request” অপশন বেছে নিন।
যে ব্যাঙ্কে টাকা নিতে চান, সেটি নির্বাচন করুন। এখান থেকেও আপনি আপনার DBT লিংক করিয়ে নিতে পারবেন বা কোন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পরিবর্তন করতে চাইলে সেটিও করতে পারবেন।
অ্যাকাউন্ট নম্বর লিখে OTP দিয়ে ফর্ম সাবমিট করুন।
প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, জুন মাস থেকেই প্রকল্পের প্রথম কিস্তি দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তাই এখনো যদি আপনি আধার লিঙ্ক না করিয়া থাকেন বা DBT লিংক না করিয়া থাকেন তাহলে অতি শীঘ্রই আপনি ব্যাংকে গিয়ে যোগাযোগ করে লিংক করিয়ে নিতে পারেন। তাই এখন থেকেই DBT ও NPCI সংক্রান্ত কাজ শেষ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়ে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে এবার শুধুমাত্র যোগ্য এবং সঠিক নথিপত্র থাকা উপভোক্তারাই যাতে সুবিধা পান, তার জন্য প্রযুক্তিগত যাচাই আরও কড়া করা হচ্ছে। এর আগের সরকারে দেখা গিয়েছে অনেক উপভোক্তা টাকা পেয়েছেন যদিও তিনি উপযুক্ত নয়। তাই এই সমস্ত ভুয়া উপভোক্তাদের ধরার জন্যই রাজ্য সরকারের নতুন এই বিশেষ উদ্যোগ। যাঁরা এই প্রকল্পের টাকা পেতে চান, তাঁদের এখনই আধার সিডিং, DBT অ্যাক্টিভেশন এবং NPCI ম্যাপিং সম্পূর্ণ করে নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
রাজ্য সরকার এবার রাজ্যবাসীদের জন্য নিয়ে আসছে আয়ুষ্মান ভারত কার্ড। এতদিন পর্যন্ত যারা স্বাস্থ্য সাথী… Read More