পশ্চিমবঙ্গ সরকার পশ্চিমবঙ্গের বেকার যুবক যুবতীদের জন্য চালু করেছেন যুব সাথী প্রকল্প তবে ইতিমধ্যেই অনেক যুবক-যুবতীরা এই প্রকল্পের টাকা পেয়ে গেলেও প্রচুর যুবক যুবতীরা এখনো পর্যন্ত এই প্রকল্পের টাকা পাননি। এপ্রিল মাসে আবারো যুবক-যুবতীদের ব্যাংক একাউন্টে টাকা ঢুকতে চলেছে তবে যারা এখনো পাননি তারা কি এবার 2 কিস্তির টাকায় একবারে অ্যাকাউন্টে পাবেন? এই নিয়ে অনেকের মধ্যে রয়েছে জল্পনা। চলুন সবিস্তরে এ ব্যাপারে জেনে নেওয়া যাক।

২০২৬-এ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আলোড়ন ফেলে দেওয়া প্রকল্পের মধ্যে সবথেকে বড় প্রকল্প হল যুব সাথী (Yuva Sathi) প্রকল্প যেটি আবারও ২০২৬ সালে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। অনেকের ব্যাংক একাউন্টে ইতিমধ্যেই টাকা চলে এলেও অনেকেই এখনো পর্যন্ত অপেক্ষায় রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এপ্রিল মাসে কি একসাথে দুই মাসের টাকা পাওয়া যেতে পারে?
এই প্রতিবেদনে আমরা পুরো বিষয়টি সহজভাবে বিশ্লেষণ করব—পেমেন্ট আপডেট, দেরির কারণ, এবং বাস্তবে কী হতে পারে সেই সম্ভাবনা।
যুব সাথী প্রকল্প কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
বর্তমানের রাজ্যে তেমন কোন সরকারি চাকরির খোঁজখবর নেই তাই বেকার যুবক-যুবতীদের মনে উৎসাহ জোগাতে রাজ্য সরকার এই প্রকল্প নিয়ে এসেছেন। রাজ্যের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে যারা এখনও স্থায়ী চাকরি পাননি, তাদের আর্থিকভাবে কিছুটা সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যেই এই প্রকল্প চালু করেছে Government of West Bengal। অনেক বেকার যুবক-যুবতীরা বাইরে থেকে চাকরির জন্য পড়াশোনা করেন তাদের জন্য এই প্রকল্প বিশাল বড় সহায়ক প্রকল্প হয়ে উঠবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে যোগ্য আবেদনকারীরা প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা সরাসরি তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পান। এর ফলে বেকার যুবক-যুবতীদের মনে উৎফুল্ল জেগে ওঠে।
এই টাকা সরাসরি DBT (Direct Benefit Transfer) পদ্ধতিতে পাঠানো হয়, ফলে কোনো মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা থাকে না। এতে যেমন স্বচ্ছতা বজায় থাকে, তেমনই সুবিধাভোগীদের কাছে দ্রুত টাকা পৌঁছানো সম্ভব হয়।
কখন থেকে টাকা দেওয়া শুরু হয়েছে
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ মাস থেকেই এই প্রকল্পের আওতায় টাকা ট্রান্সফার শুরু হয়েছে। তবে অনেকের ব্যাংক একাউন্টে টাকা এলেও অনেকে এখনো পর্যন্ত এই পেমেন্ট পাননি।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সব আবেদনকারী একসাথে টাকা পাচ্ছেন না। বরং ধাপে ধাপে, জেলা ভিত্তিক যাচাইয়ের পর পেমেন্ট করা হচ্ছে। ফলে অনেকের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে, আবার অনেকেই এখনও অপেক্ষা করছেন। তাই যাদের একাউন্টে টাকা ঢোকেনি তাদের এপ্রিল মাসে দুটো কিস্তির টাকাই একসঙ্গে ঢোকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এপ্রিলে কি দুই মাসের টাকা একসাথে পাওয়া যাবে?
এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় এটি। অনেকেই মনে করছেন, যদি মার্চ মাসের টাকা না এসে থাকে, তাহলে এপ্রিল মাসে হয়তো দুই মাসের টাকা একসাথে অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, কিছু ক্ষেত্রে এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও এটি সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। অনেকের মোবাইলে মেসেজ এলেও ব্যাংক একাউন্টে এখনো পর্যন্ত টাকা আসেনি। তাই অনেকের দুশ্চিন্তায় রয়েছে সরকারকে টাকা দেওয়া বন্ধ করে দিল? তবে সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে সকলের ব্যাংক একাউন্টে টাকা ঢুকবে এবং যাদের একাউন্টে টাকা ঢোকেনি তাদের একাউন্টে একসঙ্গে দুটো কিস্তির টাকা ঢুকে যাবে। যাদের আবেদন দেরিতে অনুমোদন হয়েছে বা মার্চ মাসে পেমেন্ট হয়নি, তাদের ক্ষেত্রে একসাথে দুই মাসের টাকা আসতে পারে।
তবে এই বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই। অর্থাৎ এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করছে আবেদন যাচাই এবং অনুমোদনের উপর। তাই প্রত্যেক আবেদনকারীর ক্ষেত্রে একই পরিস্থিতি হবে—এমনটা বলা ঠিক নয়।
কেন অনেকের টাকা এখনও অ্যাকাউন্টে পৌঁছায়নি
অনেক আবেদনকারী অভিযোগ করছেন যে, সমস্ত ডকুমেন্ট জমা দেওয়ার পরও তারা এখনও টাকা পাননি। এর পিছনে বেশ কিছু বাস্তব কারণ রয়েছে। এক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে অনেকের ব্যাংক একাউন্টের সমস্যা রয়েছে বা মোবাইল নাম্বারে সমস্যা রয়েছে অনেকের ব্যাংক একাউন্টের সঙ্গে মোবাইল নাম্বার লিঙ্ক নেই। এছাড়াও অনেকের শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে প্রমাণপত্র মেলেনি।যারা অফলাইনে আবেদন করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে ডেটা আপলোড এবং যাচাই প্রক্রিয়া তুলনামূলক ধীরগতিতে হচ্ছে। ফলে তাদের পেমেন্ট দেরিতে হচ্ছে।এছাড়া আবেদন ফর্মে ভুল তথ্য দেওয়া বা প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সঠিকভাবে আপলোড না করলেও আবেদন আটকে যেতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, যারা অনলাইনে আবেদন করেছেন এবং যাদের সমস্ত ডকুমেন্ট সঠিকভাবে জমা রয়েছে, তারা তুলনামূলক দ্রুত টাকা পাচ্ছেন।
বিশেষ করে যাদের তথ্য আগেই সরকারি ডাটাবেসে ছিল এবং যাদের KYC সম্পূর্ণ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে পেমেন্ট দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ হচ্ছে।
টাকা না পেলে কী করবেন
যদি এখনও আপনার অ্যাকাউন্টে টাকা না এসে থাকে, তাহলে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রথমেই নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করে দেখুন, সেটি আধারের সঙ্গে লিঙ্ক করা আছে কিনা এবং KYC সম্পূর্ণ হয়েছে কিনা। এছাড়াও যদি আপনার কোন ভুল থেকে থাকে তাহলে পরবর্তীকালে আপনি এটি সংশোধন করতে পারবেন এবং সঙ্গে সঙ্গে আপনার টাকা চলে আসবে ব্যাংক একাউন্টে।
এরপর আবেদন স্ট্যাটাস চেক করা জরুরি। যদি সেখানে “Under Verification” বা “Pending” দেখায়, তাহলে বুঝতে হবে যাচাই প্রক্রিয়া এখনও চলছে।
ভবিষ্যতে কী হতে পারে
সরকারি সূত্রে ইঙ্গিত মিলছে যে, যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে ধাপে ধাপে বাকি আবেদনকারীদেরও টাকা দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে এখনো অনেক আবেদন পত্র যারা অফলাইনে জমাজ করেছিল সেগুলোও ওর ডাটা এন্ট্রি করা হয়নি তাই টাকা এখনো পর্যন্ত ব্যাংক একাউন্টে আসেনি কিন্তু ধাপে ধাপে এগুলোর কাজ চলছে তাই পরবর্তীকালে টাকা ব্যাংক একাউন্টে আসবে। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে এই প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হতে পারে বলেও আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া যাদের পেমেন্ট দেরিতে হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে একসাথে একাধিক মাসের টাকা পাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, যদিও এটি এখনও নিশ্চিত নয়।
যুব সাথী প্রকল্প বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের বেকার যুবকদের জন্য একটি বড় সহায়ক উদ্যোগ। রাজ্য সরকার বেকার যুবকদের কথা মাথায় রেখে এই প্রকল্প নিয়ে এসেছেন এর ফলে সকল বেকার যুবক-যুবতীরা খুশি হয়েছে রাজ্য সরকারের এই প্রকল্পের জন্য। যদিও পেমেন্ট নিয়ে কিছু দেরি এবং বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, তবে এটি মূলত প্রশাসনিক ও যাচাই প্রক্রিয়ার কারণেই হচ্ছে।
তাই যাদের টাকা এখনও আসেনি, তাদের ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করাই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত। সঠিক তথ্য ও ডকুমেন্ট থাকলে খুব শীঘ্রই টাকা অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
