আপনি যদি বার্ধক্য হয়ে থাকেন বা আপনার পরিবারের কারো যদি বয়স হয়েছে, কাজ করার শক্তি নেই তাহলে এবার পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই সমস্ত প্রবীণ নাগরিকদের প্রতি মাসে মাসে বার্ধক্য ভাতা প্রকল্প একটি বড় ভরসা যোগাবে। প্রতি মাসে ১০০০ টাকা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দেওয়া হবে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে যার ফলে প্রবীণ নাগরিকদের অনেকাংশের সুবিধা হবে। ইতিমধ্যেই অনেকেই এই প্রকল্পে আবেদন করেছেন এবং টাকা পাচ্ছেন এবং অনেকেই নতুন করে আবেদন জানাতে চাচ্ছেন। আরও যোগ্য প্রার্থীদের এই প্রকল্পের আওতায় আনা হচ্ছে। আপনি বা আপনার পরিচিত কোনো প্রবীণ এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য কিনা, তালিকায় নাম এসেছে কিনা, এবং না আসলে কী করতে হবে — সব তথ্য এই প্রতিবেদনে।

বার্ধক্য ভাতা প্রকল্প কী এবং কে পরিচালনা করে?
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ দপ্তরের অধীনে এই প্রকল্পটি পরিচালিত হয়। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফ থেকে এই প্রকল্পের মাধ্যমে টাকা দেওয়া হয়ে থাকে। মূলত কেন্দ্রীয় সরকারের NSAP বা National Social Assistance Programme-এর সঙ্গে সমন্বয় রেখে রাজ্য সরকার তার নিজস্ব তহবিল থেকে যোগ্য প্রবীণ নাগরিকদের মাসিক ভাতা প্রদান করে। যাদের বয়স ৬০ বছর বা তার বেশি হয়েছে তারা সকলেই এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন।
কারা এই ভাতার জন্য যোগ্য?
সবাই এই ভাতা পাবেন না। কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে তবেই আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে। এখানে আবেদন জানাতে হলে আবেদনকারীর বয়স হতে হবে অবশ্যই ৬০ বছর বা তার বেশি এবং পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
আবেদনের জন্য কী কী নথি লাগবে?
এখানে আবেদন জানাতে হলে বেশ কিছু প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সঙ্গে রাখতে হবে যেগুলি হল-
- আধার কার্ড
- ভোটার কার্ড
- ব্যাংকের পাসবুক
- রেশন কার্ড
- বয়সের প্রমাণপত্র
সমস্ত নথিতে নাম, জন্মতারিখ এবং ঠিকানা হুবহু একরকম থাকা জরুরি। কোনো অমিল থাকলে যাচাই প্রক্রিয়ায় সমস্যা হয়। এর জন্য অনেক সময় আবেদনপত্র বাতিল হয়ে যেতে পারে।
কীভাবে আবেদন করবেন
গ্রামাঞ্চলের বাসিন্দারা গ্রাম পঞ্চায়েতে গিয়ে বা ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিস বা BDO অফিসে এবং শহরের বাসিন্দারা পুরসভা বা মিউনিসিপ্যাল অফিসে সরাসরি আবেদন করতে পারেন।
বার্ধক্য ভাতার নতুন তালিকায় নাম দেখবেন কীভাবে?
আবেদন করার পর অনেকেই মাসের পর মাস অপেক্ষা করেন কিন্তু জানতে পারেন না তাদের নাম তালিকায় উঠেছে কিনা। আপনিও যদি এর আগে আবেদন জানিয়ে থাকেন তাহলে আপনার স্ট্যাটাস আপনি অনলাইনে ঘরে বসে দেখে নিতে পারবেন। এখন ঘরে বসেই অনলাইনে তালিকা দেখা সম্ভব।
প্রথম ধাপ: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা NSAP পোর্টালে যান।
দ্বিতীয় ধাপ: হোমপেজে Reports অপশনে ক্লিক করুন।
তৃতীয় ধাপ: সেখানে State Dashboard বা List of Beneficiaries অপশনটি বেছে নিন।
চতুর্থ ধাপ: রাজ্যের নাম, প্রকল্পের নাম এবং ক্যাপচা কোড পূরণ করে Submit করুন।
পঞ্চম ধাপ: ড্রপডাউন মেনু থেকে নিজের জেলার নাম, ব্লকের নাম এবং গ্রাম পঞ্চায়েত বা পুরসভার নাম বেছে নিন।
ষষ্ঠ ধাপ: Submit বাটনে ক্লিক করলে আপনার এলাকার সর্বশেষ অনুমোদিত উপভোক্তাদের তালিকা স্ক্রিনে দেখা যাবে। নিজের নাম, বাবার নাম ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর মিলিয়ে দেখুন।
যারা এখনও আবেদন করেননি, তাদের জন্য বিশেষ বার্তা
পশ্চিমবঙ্গের অনেক গ্রামে এখনও এমন প্রবীণ মানুষ আছেন যারা এই ভাতার কথাই জানেন না। প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলের মানুষ এখনো এই প্রকল্পের সুবিধা পান না। তাই আপনি যদি এই প্রকল্পের সুবিধা কথা জেনে থাকেন বা আপনার পরিবারের যদি কেউ এই প্রকল্পের আওতায় আসে তাহলে অবশ্যই আবেদন জানাতে পারেন। তথ্যের অভাবে বছরের পর বছর ধরে এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।। পরিবারের তরুণ সদস্যদের দায়িত্ব হলো বাড়ির দাদু-ঠাকুমা বা পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের এই প্রকল্প সম্পর্কে জানানো এবং আবেদন করতে সাহায্য করা। প্রতিবেশী বা গ্রামের কোনো যোগ্য প্রবীণ মানুষ যদি এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকেন, তাহলে তাঁকেও সাহায্য করুন।
বার্ধক্য ভাতার ১০০০ টাকা হয়তো অনেকের কাছে সামান্য মনে হবে। ইতিমধ্যে শোনা যাচ্ছে এই প্রকল্পে টাকার পরিমাণ ১০০০ থেকে বাড়িয়ে ১৫০০ করা হবে। কিন্তু যে প্রবীণ মানুষটির নিজের কোনো আয় নেই, সংসারের উপর নির্ভর করে থাকতে হয় — তার কাছে এই টাকা শুধু অর্থ নয়, এটা আত্মসম্মান।
আপনার পরিবারে বা আশেপাশে যদি এমন কোনো প্রবীণ মানুষ থাকেন যার বয়স ৬০ বছরের বেশি, নিজের কোনো আয় নেই এবং কোনো সরকারি পেনশন পাচ্ছেন না — তাহলে আজই তার জন্য ব্লক অফিস বা পুরসভায় যোগাযোগ করুন। নথি গুছিয়ে আবেদন করুন। তালিকায় নাম উঠলে প্রতি মাসে সরাসরি ব্যাংকে টাকা আসবে। একটু পরিশ্রমই পারে একজন প্রবীণের বাকি জীবনটাকে কিছুটা সহজ করে দিতে।
