পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার গঠনের আগে নতুন সরকারের অন্যতম বড় ঘোষণা ছিল ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ (Annapurna Bhandar) প্রকল্প। রাজ্যের পিছিয়ে পড়া মহিলাদের আর্থিকভাবে সচ্ছল করার জন্য এই প্রকল্পের মাধ্যমে মাসে মাসে সরাসরি ৩০০০ টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। ইতিমধ্যেই ঘোষণা করা হয়েছিল লক্ষী ভান্ডার প্রকল্প পেলেই সে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে টাকা পাবে তবে রাজ্যজুড়ে এই প্রকল্প নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে। বুধবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেল ফর্ম বিতরণ এবং আবেদন প্রক্রিয়া। এর ফলে যারা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা নিতে চান তাদের নতুন করে আবার আবেদন করতে হবে।

মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari প্রশাসনিক বৈঠকে ঘোষণা করেছেন, খুব দ্রুত এই প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। জুন মাসের ১ তারিখ থেকে সকলের ব্যাংক একাউন্টে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে টাকা দেওয়ার কথা ছিল। ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে নির্দিষ্ট অনলাইন পোর্টাল এবং বিভিন্ন জেলায় ক্যাম্পের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণের কাজও শুরু হয়েছে। এর ফলে জানানো হয়েছে যারা দ্রুত আবেদন জানাবেন তাদের টাকা ও খুব দ্রুত একাউন্টে চলে আসবে। ফলে এবার রাজ্যের বহু মহিলা সরাসরি এই আর্থিক সহায়তার সুবিধা পেতে চলেছেন।
কারা পাবেন এই ৩০০০ টাকার সুবিধা?
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, নিম্নলিখিত মহিলারা এই প্রকল্পের আওতায় সুবিধা পেতে পারেন। নতুন করে অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পে আবেদন জানাতে হলে আপনার নিম্নলিখিত যোগ্যতা গুলি থাকতে হবে-
- প্রথমেই আপনাকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী মহিলা বাসিন্দা হতে হবে এবং আপনাকে অবশ্যই বিবাহিত হতে হবে
- আবেদনকারীর বয়স হতে হবে ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে
- পরিবারের আর্থিক অবস্থা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকতে হবে
- সরকারি চাকরিজীবী বা আয়করদাতা পরিবার এই সুবিধা পাবেন না
- সক্রিয় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে
- আধারের সঙ্গে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট লিঙ্ক থাকা বাধ্যতামূলক
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের উপভোক্তাদের কি নতুন করে আবেদন করতে হবে?
না, যাঁরা আগে থেকেই ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁদের নতুন করে আবেদন করার প্রয়োজন নেই। আপাতত তারা লক্ষী ভান্ডার প্রকল্পের মাধ্যমে টাকা পেয়ে যাবেন। সরকার জানিয়েছে, ধীরে ধীরে পুরনো তালিকার উপভোক্তাদের সরাসরি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের আওতায় আনা হবে। এরপর থেকে তারা অন্নপূর্ণা ভান্ডারের মাধ্যমে প্রতি মাসে টাকা পেয়ে যাবেন। তবে এক্ষেত্রে যাদের নাম আগে বাদ পড়েছিল বা কোন সমস্যা ছিল তাদের আবার নতুন করে ফর্ম ফিলাপ করতে হবে।
কোথা থেকে মিলবে আবেদনপত্র?
আবেদনপত্র দুইভাবে সংগ্রহ করা যাবে—
১. অনলাইনে
সরকারি পোর্টালে গিয়ে আবেদনপত্র ডাউনলোড করা যাবে।
Annapurna Bhandar Official Portal
কীভাবে অনলাইনে আবেদন করবেন?
অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ রাখা হয়েছে। নিচের ধাপগুলি অনুসরণ করলেই আবেদন করা যাবে—
ধাপ ১:
প্রথমেই আবেদনকারীকে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ভিজিট করতে হবে।
ধাপ ২:
এরপর আবেদনকারী কে ‘Annapurna Bhandar’ সেকশনে ক্লিক করতে হবে।
ধাপ ৩:
‘Application Form Download’ অপশনে ক্লিক করুন। আবেদনের ফরমটি ডাউনলোড হয়ে গেলে সেটি এই প্রিন্ট আউট করে নিতে হবে।
ধাপ ৪:
এরপর আবেদন পত্রটি ভালোভাবে ফিলাপ করে এর সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমস্ত ডকুমেন্টগুলো সংযুক্ত করতে হবে।
ধাপ ৫:
নিকটবর্তী ক্যাম্প বা অফিসে জমা দিন।
আবেদনের জন্য কী কী নথি লাগবে?
আবেদন করার সময় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নথি জমা দিতে হবে—
| নথির নাম | প্রয়োজন |
|---|---|
| আধার কার্ড | পরিচয় প্রমাণ |
| রেশন কার্ড | পরিবার ও বাসস্থানের তথ্য |
| ব্যাঙ্ক পাসবই | DBT ট্রান্সফারের জন্য |
| আয় শংসাপত্র | আর্থিক যোগ্যতা যাচাই |
| মোবাইল নম্বর | OTP ও আপডেটের জন্য |
| বাসস্থানের প্রমাণপত্র | স্থায়ী ঠিকানা যাচাই |
আধার সিডিং কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার সংযুক্ত না থাকলে টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকবে না। তাই আবেদন করার আগে অবশ্যই—
- Aadhaar Seeding
- NPCI Mapping
- DBT Activation
সম্পূর্ণ করতে হবে।
অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, আধার লিঙ্ক না থাকায় সরকারি প্রকল্পের টাকা আটকে যাচ্ছে। তাই এই কাজটি দ্রুত শেষ করার পরামর্শ দিচ্ছে প্রশাসন। তাই আপনার একাউন্টে যদি আধার লিঙ্ক বা আধার সিডিং না থেকে থাকে তাহলে আপনাকে তাড়াতাড়ি আধার লিঙ্ক করিয়ে নিতে হবে না হলে পরবর্তীকালে আপনি আর টাকা পাবেন না।
কবে থেকে অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে?
নবান্ন সূত্রে খবর, আগামী ১ জুন থেকেই টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। তাই যাদের অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে আবেদন প্রক্রিয়া আগে হবে তাদের একাউন্টে আগে টাকা ঢুকবে। প্রথম পর্যায়ে পুরনো উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে নতুন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে যাচাই সম্পূর্ণ হওয়ার পর ধাপে ধাপে টাকা ট্রান্সফার করা হবে।
মহিলাদের জন্য বড় স্বস্তি
বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির বাজারে মাসে অতিরিক্ত ৩,০০০ টাকা বহু পরিবারের জন্য বড় সহায়তা হয়ে উঠতে পারে। মহিলাদের একাউন্টে ৩০০০ টাকা দিলে তারা এই টাকা বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করতে পারবে। বিশেষ করে গ্রামীণ মহিলা, গৃহবধূ এবং আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারগুলির জন্য এই প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প ইতিমধ্যেই রাজ্যের অন্যতম আলোচিত জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে পরিণত হয়েছে। প্রতিটি মহিলা বিশেষ করে যারা যোগ্য তারা মাসে ৩,০০০ টাকার সরাসরি আর্থিক সহায়তা পাবেন এর ফলে মহিলাদের জীবনে ব্যাপক পরিবর্তন আসতে চলেছে। ইতিমধ্যেই ফর্ম বিতরণ শুরু হয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন জেলায় আবেদনকারীদের ভিড় বাড়ছে। যাঁরা এখনও আবেদন করেননি, তাঁরা দ্রুত প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন। কারণ যাচাই শেষে অনুমোদিত তালিকাতেই মিলবে এই বিশেষ সরকারি সুবিধা।
